|| সিভি সম্পর্কে ১০টি প্রশ্নের উত্তর ||

16

|| সিভি সম্পর্কে ১০টি প্রশ্নের উত্তর ||

অন্যকে ইমপ্রেস করতে হলে নিজেকে এক্সপ্রেস করা জানতে হবে। আর নিজেকে এক্সপ্রেস করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে সিভি। আপনি নিজে সেসব জায়গায় জীবনেও যেতে পারবেন না, সেখানে আপনার সিভি যাবে। কাজেই সিভিকে গুরুত্ব না দেয়াটা আত্মঘাতী।

১০। আমাদের সবার একটি ধারণা সিভি দিয়ে কি জব হয়? লোক তো আগেই সিলেক্ট করা থাকে।

এটা একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। দেখুন, দুই-একটি বাজে প্র্যাক্টিসকে আপনি যদি রেফারেন্স ধরে নিয়ে বসে থাকেন, তাহলে সামনে এগোবেন কিভাবে? আপনার চোখে কি ভালো রেফারেন্সগুলো পড়ে না! একটি অনৈতিক ঘটনার রেফারেন্স টেনে নিজের ক্যারিয়ারের ক্ষতি করাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে? ঢাকা শহরে দুই কোটি লোক বাস করে কিন্তু এমন অনেক দিন আছে যেদিন ঢাকায় একটিও সড়ক দুর্ঘটনা হয় না। এমনটি পৃথিবীর আর কোথায় পাবেন?

বাইরে বের হলে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু ঘরে বসেও কেউ অমর হয় না। তাই, নিজেকে তৈরি করুন। নিজের কাজ তুলে ধরুন। পজিটিভ চিন্তাধারা নিয়ে এগোন। নেগেটিভ ঘটনা যদি দুই-একটি থাকে, পজিটিভ ঘটনা আছে শত শত। অনেকে আছে এক সঙ্গে ৪-৫টি জব পায়, অনেকে আছে ১০০ বার সিভি দিয়েও দু’বার ঠিকমতো কল পায় না। সম্ভাবনা থেকে সাফল্য, সবই আপনার সামনে, চাই শুধু সাহস, সততা ও সদিচ্ছা।

৯। সিভির ফন্ট কী দিবো, কত সাইজের ফন্ট দিবো? টাইমস নিউ রোমান দিবো, নাকি অন্য কিছু দিবো?

দেখুন, আপনি টাইমস নিউ রোমান ফন্টে সিভি লিখলেন নাকি লিখলেন না, তা আপনার জব পাওয়া নিশ্চিত করবে না। যে কোনো ভালো ফন্ট ব্যবহার করা যেতে পারেন, আঁকা-বাঁকা ফন্ট ব্যবহার করবেন না যেটা চোখে দেখতে খারাপ লাগে। কাজকে ফোকাস করুন যে কোনো দৃষ্টিনন্দন ফন্ট দিয়ে। সিভিতে কোনো কালার, শেড, বক্স ইত্যাদি দিবেন না। মনে রাখবেন,.’

৮। সিভি শেষে সই কি বাঁ পাশে দিবো নাকি ডান পাশে?

আপনি নিজেকে নিয়োগদাতার আসনে বসান, বসিয়ে ভাবুন, আপনি যদি আজ নিয়োগদাতা হতেন, কোন পাশের সই আপনার বেশি পছন্দ হতো? আপনার মন বলবে, আরে সই দিয়ে কি হবে, আগে কাজগুলো দেখে নেই। ঠিক তাই, গৌণ বিষয়কে প্রাধান্য না দিয়ে মুখ্য বিষয়কে প্রাধান্য দিন।

৭। সিভিতে কাকে রেফারেন্স রাখব ?

ফ্রেশারদের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষক ও একজন প্রফেশনাল লোককে রেফারেন্স রাখা ভালো, কিন্তু এরপর থেকে আর শিক্ষককে রেফারেন্স না রাখাই ভালো। কারণ, শিক্ষকরা অনেককেই পড়ান, সবাইকে মনে রাখা তো আর সম্ভব না, কাজেই আপনার সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে শিক্ষক যদি আপনাকে চিনতেই না পারে, তাহলে হিতে বিপরীত হবার সুযোগ বাড়ে।

৬। ক্যারিয়ার সামারি কীভাবে লিখব?

আমার মতে, সামারি হয় বড় কোনো জিনিসের। যেমন ধরুন, আপনি ১৫ বছর জব করেছেন, তাহলে আপনার ক্যারিয়ারটা অনেক বড়, এটার সামারি হতেই পারে। কিন্তু আপনি জব করেছেন ২ বছর, এক বছর, আপনার ক্যারিয়ার তো মাত্র শুরু, এখানে কেন সামারি হবে? আপনার থাকবে ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ, সামারি নয়। যদিও আমাদের দেশের জব পোর্টালগুলো ক্যারিয়ার সামারি দিতে বলে, কিন্তু সেটা সবার জন্য নয়। সেটা সিনিয়রদের জন্য। জুনিয়রদের থাকে অবজেক্টিভ, সিনিয়রদের থাকে সামারি।

৫। সিভি কি এক পেইজে হওয়া ভালো?

না, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিভি এক পেইজে হওয়া একদমই ভালো না, এতে আপনাকে অনেক হালকা মনে হবে। ফ্রেশার থেকে শুরু করে ১০ বছরের জব এক্সপেরিয়েন্স পর্যন্ত সিভি হতে হবে দুই পেইজের। এরপর ১০ বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়িয়ে গেলে আর একটি পেইজ বাড়াতে পারেন। বাড়তি পেইজ নয় বরং কাজ দিয়ে সিভি তৈরি করুন।

৪। পিতার নাম, মাতার নাম কি দিতে হবে?

আচ্ছা, একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার পিতার নাম আমজাদ আলী নাকি রমজান আলী, তার সঙ্গে আপনার জবের কি কোনো সম্পর্ক আছে বা সেটি আদৌ আপনার জবে কোন প্রভাব ফেলবে কি না? পিতার পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার চেয়ে নিজের কাজের মাধ্যমে নিজেকে চেনান।

৩। অনেকে বলেন, সিভিতে রেফারেন্স, ডিক্লারেশন, সিগনেচার দরকার নেই, এটা কি ঠিক?

দেখুন, সিভি লেখা নিয়ে যে যার মতো করে অনেক কিছুই বলে। বাইরের দেশের সিভি ও বাংলাদেশের সিভি এক নয়। সিভি এক; কিন্তু বায়োডাটা, সিভি, রিজিউম ও প্রোফাইল চারটাই ভিন্ন জিনিস। সিভি লাগে পড়াশোনার কাজে, রিজিউম লাগে জব পেতে। সিভির সঙ্গে দিতে হয় লেটার অফ মোটিভেশন। রিজিউমের সঙ্গে দিতে হয় কভার লেটার। অনেকে এগুলো জানেই না।

পিএইচডি করা লোককে জিজ্ঞেস করা হয়, ”আপনি কি মেট্রিক পাস করেছেন?” মেট্রিক পাস না হয়ে পিএইচডি কিভাবে এলো সেটা অনেকে বোঝে না। তাই বাইরের দেশের নিয়ম এখানে প্রয়োগ করে লাভ নেই। যে দেবতা যে ফুল দিয়ে পূজা করলে খুশি তাকে তাই দিয়ে পূজা দিন। তবে সিনিয়র পোস্টে যারা কাজ করেন, তাদের রেফারেন্স উল্লেখ না করলেও চলবে।

২। ফ্রেশারদের তো এক্সপেরিয়েন্স নেই, এক্সপেরিয়েন্স কোথায় পাবো?

আপনি গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন ২৫ বছর বয়সে। এই ২৫ বছরে কি আপনার অভিজ্ঞতা হয়নি? আপনি কি আপনার বোনের বিয়ের আয়োজন করেননি? তাহলে আপনি কেন একটা কোম্পানির নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ করতে পারবেন না? আপনি কি ভাইয়ের বিয়ের দাওয়াত দিতে যান নি, তাহলে কেন আপনি প্রোডাক্ট লিফলেট বিতরণ করতে পারবেন না?

আপনি কি ছাত্রাবস্থায় পিকনিক করেননি, তাহলে কেন আপনি কোম্পানির হয়ে ইভেন্ট আয়োজন করতে পারবেন না? আপনি কি গ্র্যাজুয়েশনের ৪টা বছর নিয়মিত ল্যাব রিপোর্ট, পেপার তৈরি করেননি, তাহলে কেন আপনি কোম্পানির জন্য রিপোর্ট তৈরি করতে পারবেন না? আপনি কি গ্রুপে রিপোর্ট তৈরি করেননি, তাহলে কেন আপনি টিম ওয়ার্কার নন? আপনি কি কোথাও ঘুরতে যাননি, তাহলে কেন আপনি ওয়েল কমিউনিকেটর নন? ভেবে দেখুন, সবকিছু আপনার মধ্যেই আছে। শুধু জায়গামত ব্যবহার করতে পারছেন না।

আপনার কাছ থেকে একজন ইন্টারভিউয়ার কিন্তু এসবই শুনতে চান। যিনি ভালো গান জানে, তিনি একজন ভালো বক্তা, উপস্থাপক ও প্রেজেন্টার। যিনি নাচ জানেন, তিনি খুবই পরিশ্রমী ও উদ্যমী। যিনি আর্ট জানেন, তিনি খুবই ধৈর্যশীল। এগুলোই আপনার গুণ। ছাত্রাবস্থায় ৫৫% সময় পড়াশোনার পিছনে আর ৪৫% সময় নেটওয়ার্ক তৈরিতে কাজে লাগান।

ফ্রেশাররা অভিজ্ঞতা শূণ্য নন। তাদের ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। তারা ১০ বছর স্কুলে পড়েছেন, ২ বছর কলেজে, ৪ বছর গ্র্যাজুয়েশন ও ২ বছর মাস্টার্স। দিনগুলো তো আর এমনি এমনি কাটেনি। ২৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাকে দুই পেজে আপনার সিভিতে ফুটিয়ে তুলুন। আপনি অভিজ্ঞতা শূণ্য নন। আপনার চাকরি হবেই। ইন্টার্নশিপ আথবা ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট থাকলে সেগুলো লিখুন।

১। ভালো সিভি লেখার ক্ষেত্রে ফরম্যাটের গুরুত্ব কতখানি?

ভালো সিভি লেখার ক্ষেত্রে ফরম্যাট আপনাকে ১০% এগিয়ে নিবে। বাকি ৯০% কিন্তু আপনার কাজ। তাই, ১০% এর পেছনে সময় নষ্ট না করে ৯০% নিয়ে ভাবুন। আজই নিজের দুর্বল দিকগুলো ঠিক করে নিন।

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published. Required fields are marked *